Header Ads Widget

সার্টিফিকেটে বয়স কমিয়ে চাকরি নিলে আয় কি হারাম হবে?

 সার্টিফিকেটে বয়স কমিয়ে চাকরি নিলে আয় কি হারাম হবে?

ছবি সংগৃহীত

আমাদের দেশে জন্মতারিখ নিয়ে প্রায়ই বিভ্রান্তি দেখা যায়। অনেকের আসল বয়স ও সার্টিফিকেটে লেখা বয়সের মধ্যে এক-দুই বছরের তারতম্য থাকে। অনেক সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বয়স কম দেখানো হয় ভবিষ্যতে চাকরির সুযোগ পাওয়ার জন্য।

ইসলামের দৃষ্টিতে বয়স কমিয়ে লেখা

ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে ইচ্ছাকৃতভাবে সার্টিফিকেটে বয়স কমানো জায়েজ নয়। এটি একটি সুস্পষ্ট প্রতারণা।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“যে ব্যক্তি ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।”
📖 (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৬৪; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২২২৫)

এছাড়া মুমিনদের জন্য শর্ত পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি। নবী করিম ﷺ ইরশাদ করেছেন:

“মুসলমানরা তাদের শর্তের ওপর থাকবে।”
📖 (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৩৫৯৪; সুনানে দারাকুতনি, হাদিস : ২৮৯০)

অতএব, ইচ্ছাকৃতভাবে বয়স কমিয়ে লেখা প্রতারণা এবং হারাম।


চাকরির ইনকামের হুকুম

  • যদি কেউ বয়স কমিয়ে সার্টিফিকেট তৈরি করে চাকরি নেয়, তবে বয়স কমানোর কাজটি হারাম

  • কিন্তু ওই চাকরি থেকে পাওয়া বেতন হারাম হবে না। কারণ বেতন দেওয়া হয় নির্ধারিত কাজ ও পরিশ্রমের বিনিময়ে।


ব্যতিক্রম পরিস্থিতি

  • যদি ঘটনাক্রমে (অসাবধানতাবশত) বয়সে এক-দুই বছরের পার্থক্য থেকে যায় এবং সেটি সংশোধন করা সম্ভব না হয়, তাহলে এর দায়ভার ওই ব্যক্তির ওপর বর্তাবে না।

  • তবে যদি সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মে বয়সসীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকে, আর বাস্তবে বয়স তার বাইরে হলেও সার্টিফিকেট অনুযায়ী ভেতরে পড়ে—তাহলে সে চাকরি গ্রহণ করা উচিত নয়। করলে তা অনুচিত ও তাকওয়ার পরিপন্থী কাজ হবে।


সারসংক্ষেপ

  • ইচ্ছাকৃতভাবে বয়স কমানো = হারাম।

  • সেই বয়স কমিয়ে চাকরি পাওয়া = অনুচিত।

  • তবে ওই চাকরির ইনকাম = হারাম নয়, কারণ তা শ্রমের বিনিময়।


👉 তাই, মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত সততার সাথে চাকরি করা এবং ধোঁকাবাজি থেকে বেঁচে থাকা। আল্লাহর উপর ভরসা করে বৈধ উপায়ে রিজিক অন্বেষণ করা-ই মুমিনের দায়িত্ব।

Post a Comment

0 Comments