শ্বশুর-শাশুড়িকে ‘আব্বা-আম্মা’ বলে ডাকা কি বৈধ?
পবিত্র কুরআনে জন্মদাত্রী মা ছাড়া অন্য মহিলাকে ‘মা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন— রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রীগণকে আল্লাহ মুমিনদের মা বলেছেন (সূরা আল-আহযাব : ৬; সূরা ইউসুফ : ৯৯-১০০)। একইভাবে জন্মদাতা পিতা ছাড়া অন্যকেও ‘পিতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৩৩; সূরা আল-হজ্জ : ৭৮)।
🔹 নবী করীম (ﷺ) মুমিনদের পিতা
আল্লাহ বলেন:
اَلنَّبِیُّ اَوۡلٰی بِالۡمُؤۡمِنِیۡنَ مِنۡ اَنۡفُسِہِمۡ وَ اَزۡوَاجُہٗۤ اُمَّہٰتُہُمۡ
“নবী মুমিনদের কাছে তাদের নিজেদের থেকেও অধিক ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মাতা” (সূরা আল-আহযাব : ৬)।
মুফাসসিরগণ এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: “وهو أب للمؤمنين” — নবী করীম (ﷺ) মুমিনদের পিতা।
অতএব, নবীজি মাতা-পিতা না হয়েও মুমিনদের জনক এবং তাঁর স্ত্রীগণ মুমিনদের জননী।
🔹 সাহাবীদের সম্বোধন
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনাস (রাযি.)-কে একবার বলেছেন: “হে আমার সন্তান!” (সহীহ মুসলিম, হা/২১৫১)।
অন্যকে বাবা বলা নিয়ে সতর্কবাণী
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি অন্যকে নিজের পিতা বলে দাবি করবে অথচ জানে যে তিনি তার পিতা নন, তার জন্য জান্নাত হারাম।”
(সহীহ বুখারী: ৪৩২৬, ৬৭৬৬; সহীহ মুসলিম: ৬৩)
📌 এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো— বংশপরিচয় গোপন করে নথিপত্রে বা অফিসিয়াল জায়গায় প্রকৃত বাবার নাম বাদ দিয়ে অন্য কারো নাম লেখা।
এটি কঠোরভাবে হারাম।
শ্বশুর-শাশুড়িকে ‘আব্বা-আম্মা’ বলা
➡️ শ্বশুর-শাশুড়িকে আব্বা-আম্মা বলে ডাকার মধ্যে বংশপরিচয় গোপন হয় না।
➡️ তাই এভাবে সম্বোধনে কোনো দোষ নেই।
➡️ তবে যদি কেউ নিজের আসল পিতা-মাতাকে অস্বীকার করে শ্বশুর-শাশুড়িকে তাদের স্থানে বসায়, তবে সেটা হারাম।
✅ সারসংক্ষেপ: শ্বশুর-শাশুড়িকে স্নেহ ও সম্মানের সাথে ‘আব্বা-আম্মা’ ডাকা জায়েয। তবে সরকারি কাগজপত্রে বা পরিচয়ের ক্ষেত্রে জন্মদাতা পিতার নাম ছাড়া অন্য কারো নাম ব্যবহার করা হারাম।
সূত্র: মাসিক আল-ইখলাছ
0 Comments