| ছবি সংগৃহীত |
শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি জামাইয়ের দায়িত্ব ও কর্তব্য
শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি মেয়ের জামাইয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। যদিও তাদের প্রতি জামাইয়ের দায়িত্ব পিতা-মাতার মতো ফরজ নয়, তবুও একজন আদর্শ জামাই হিসেবে তাদের প্রতি সম্মান, শ্রদ্ধা ও যত্ন নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
“তিনিই মানুষকে পানি হ’তে সৃষ্টি
করেছেন। অতঃপর তিনি তার বংশগত ও বিবাহগত সম্পর্ক নির্ধারণ করেছেন। আর তোমার
প্রতিপালক সর্বশক্তিমান।”
(সূরা ফুরক্বান ২৫:৫৪)
এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ উভয় বংশের (নিজ বংশ ও শ্বশুর বংশ) গুরুত্ব ও মর্যাদা বোঝাতে চেয়েছেন। অতএব উভয় বংশের সম্মান রক্ষা করা, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সহানুভূতিশীল থাকা প্রত্যেকের জন্য অপরিহার্য।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন—
“জেনে রেখ! তোমাদের যেরূপ অধিকার রয়েছে তোমাদের স্ত্রীদের উপর, তোমাদের স্ত্রীদেরও তদ্রূপ অধিকার রয়েছে তোমাদের উপর।”
(তিরমিযী হাদীস ১১৬৩)
অতএব স্ত্রীর পিতা-মাতা হিসাবে শ্বশুর-শাশুড়ীর প্রতি জামাইয়ের সহানুভূতিশীল হওয়া এবং সদাচরণ করা কর্তব্য।
জামাইয়ের দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ
১. সম্মান ও শ্রদ্ধা
-
শ্বশুর-শাশুড়িকে সর্বদা সম্মান করা।
-
তাদের বয়স, অভিজ্ঞতা ও অবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া।
২. সেবা ও দেখাশোনা
-
তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের খোঁজ নেওয়া।
-
অসুস্থ হলে সেবা করা ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করা।
৩. আর্থিক সাহায্য
-
প্রয়োজনে আর্থিকভাবে সহায়তা করা।
-
সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করা।
৪. সহানুভূতি প্রদর্শন
-
তাদের দুঃখ-কষ্টে পাশে থাকা।
-
সমস্যার সমাধানে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করা।
৫. অনুভূতি ও ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া
-
তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া।
-
তাদের অনুভূতি ও ইচ্ছার প্রতি সহমর্মী হওয়া।
৬. সুসম্পর্ক বজায় রাখা
-
বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখা।
-
নিয়মিত যোগাযোগ রাখা ও সময় কাটানো।
৭. কৃতজ্ঞ থাকা
-
তাদের সাহায্য ও অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া।
-
আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।
উপসংহার
মোটকথা, একজন আদর্শ জামাইয়ের দায়িত্ব হলো—
শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি সম্মান, শ্রদ্ধা, সেবা ও ভালোবাসা প্রদর্শন করে তাদের জীবনকে আরও সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সহজ করে তোলা।
0 Comments