| ছবি সংগৃহীত |
বাংলা প্রবাদে আছে— “সৎ সঙ্গ স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গ সর্বনাশ।”
এ প্রবাদ শুধু মুখের বুলি নয়, বরং বাস্তব জীবনের গভীর শিক্ষা। কারণ মানুষ সবসময় তার চারপাশের বন্ধু-বান্ধব ও পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়। সেই জন্যই প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বন্ধু নির্বাচনের ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“মানুষ তার বন্ধুর রীতিনীতির অনুসারী হয়। সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকেই যেন লক্ষ্য করে, সে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে।”
(আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৩৩)
সঙ্গদোষের প্রভাব
বন্ধুত্বের প্রভাব মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপকভাবে পড়ে। বন্ধুরা অবচেতনভাবে মানুষের চিন্তা-চেতনা ও অভ্যাসে পরিবর্তন আনে। ফলে কারো জীবনধারা হয় ইতিবাচক, আবার কারো জীবন হয়ে পড়ে নেতিবাচক। এই প্রভাবকেই সহজ বাংলায় বলা হয়— সঙ্গদোষ।
ভালো সঙ্গ স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও উন্নতির প্রেরণা যোগায়। অন্যদিকে খারাপ সঙ্গ মানুষকে ধ্বংসাত্মক কাজের দিকে ঠেলে দেয়। তাই ব্যক্তিগত উন্নতি ও ইহকাল-পরকালীন কল্যাণের জন্য প্রয়োজন এমন বন্ধু নির্বাচন করা, যাদের জীবনদর্শন ও আকাঙ্ক্ষা ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সৎ ও অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ
নবী করিম (সা.) বন্ধুত্বের প্রভাব বোঝাতে এক দৃষ্টান্ত দিয়েছেন—
“সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর দৃষ্টান্ত হলো কস্তুরী বিক্রেতা ও কামারের হাপরের মতো। কস্তুরী বিক্রেতা হয়তো তোমাকে কিছু উপহার দেবে, নতুবা তুমি তার কাছ থেকে সুবাস পাবে। আর কামারের হাপর হয়তো তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে কিংবা তুমি তার কাছ থেকে দুর্গন্ধ পাবে।”
(আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮২৯)
সৎ বন্ধুত্বের কোরআনিক দৃষ্টিভঙ্গি
আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেছেন—
“ঈমানদার পুরুষ ও নারী একে অপরের বন্ধু। তারা সৎকাজের নির্দেশ দেয় এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখে। নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন-যাপন করে। তাদের ওপর আল্লাহ তাআলার রহমত বর্ষিত হবে।”
(সুরা তওবা, আয়াত : ৭১)
অন্যদিকে, নিছক দুনিয়াবী স্বার্থে বন্ধুত্ব মানুষের ইহকাল ও পরকাল উভয় জীবনে আফসোসের কারণ হবে। কোরআনে এসেছে—
“হায় আমার দুর্ভোগ! আমি যদি অমুককে বন্ধু না বানাতাম। অবশ্যই সে আমাকে উপদেশ আসার পরও বিভ্রান্ত করেছিল। আর শয়তান তো মানুষের জন্য প্রতারক।”
(সুরা ফুরকান, আয়াত : ২৮-২৯)
আখিরাতে প্রকৃত বন্ধুত্ব
হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ সাত শ্রেণির মানুষকে আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন। তাদের একজন হলো সেই দুই ব্যক্তি, যারা আল্লাহর জন্যই একে অপরকে ভালোবাসে, সেই সম্পর্কে মিলিত হয় এবং সেই সম্পর্কেই বিচ্ছিন্ন হয়।”
(তিরমিজি, হাদিস : ২৩৯১)
উপসংহার
সুতরাং, বন্ধুত্বের আসল মানদণ্ড হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি। সেই বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু, যে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণের পথে সহযাত্রী হয়। সৎ বন্ধু মানুষকে জান্নাতের পথে ডাকে, আর অসৎ বন্ধু মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। তাই বন্ধুত্ব করতে হবে ভেবে-চিন্তে, যেন তা হয় জান্নাত পর্যন্ত স্থায়ী।
0 Comments