| গত বছরের ১৬ জুলাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নগরের মুরাদপুর এলাকায় হামলা করেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা |
চট্টগ্রামে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: প্রকাশ্যে গুলি চালানো ২৭ অস্ত্রধারী এখনো অধরা
চট্টগ্রামে গত বছরের জুলাই মাসে ছাত্র–জনতার ওপর প্রকাশ্যে গুলি চালানো ২৭ জন অস্ত্রধারী এখনো ধরা পড়েনি। এরা সবাই যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সক্রিয় নেতা–কর্মী। ভিডিও–ছবি বিশ্লেষণে শনাক্ত করা এসব অস্ত্রধারীর হাতে দেখা গেছে পিস্তল, শটগান ও কাটা বন্দুক।
👉 এক বছর পার হলেও হামলায় ব্যবহৃত মাত্র দুটি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।
সংঘর্ষের প্রেক্ষাপট
-
১৬ ও ১৮ জুলাই এবং ৪ আগস্ট ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, নিউমার্কেট, সিআরবি ও আসকার দিঘিরপাড় এলাকায় টানা সংঘর্ষ হয়।
-
ছাত্র–জনতার আন্দোলনের মুখে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মুখোমুখি হলে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ চলে।
-
ভিডিও ও ছবিতে অন্তত ৪৬ অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করে পুলিশ। এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কারা ছিলেন অস্ত্র হাতে?
-
মুরাদপুর (১৬ জুলাই):
-
পিস্তল হাতে যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপ–অর্থ সম্পাদক হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর
-
কাটাবন্দুক হাতে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মো. ফিরোজ
-
শটগান হাতে নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের মো. দেলোয়ার
-
যুবলীগ কর্মী এন এইচ মিঠু ও মো. জাফর
-
ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম নিজেও হামলার নেতৃত্ব দেন
-
-
বহদ্দারহাট (১৮ জুলাই):
-
পিস্তল হাতে চান্দগাঁও থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন ফরহাদ
-
যুবলীগ কর্মী ড্রিল জালাল, জামাল, ঋভু মজুমদার ও মিজান
-
শটগান হাতে যুবলীগ কর্মী তৌহিদুল (একাই ২৮ রাউন্ড গুলি চালান বলে অভিযোগ)
-
-
নিউমার্কেট–সিআরবি–আসকার দিঘির পাড় (৪ আগস্ট):
-
মুখোশ পরিহিত অবস্থায় শটগান হাতে যুবলীগ ক্যাডার মো. শামীম
-
পিস্তল হাতে মোস্তফা কামাল ও ইকবাল হোসেন (সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম বাহাদুরের অনুসারী)
-
ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ফরহাদুল ইসলাম চৌধুরী রিন্টু
-
এ সময় সিআরবি এলাকায় গুলিতে নিহত হন দুই আন্দোলনকারী—সাইফুল ইসলাম ও মো. হাসান।
মামলার অগ্রগতি
-
গত বছর জুলাই মাসে এসব ঘটনায় ৬৯টি মামলা হয়, যার মধ্যে ১৫টি হত্যা মামলা।
-
আসামির সংখ্যা ২১,৯০৬ জন, এর মধ্যে নামযুক্ত আসামি ৭,২২৬ জন।
-
এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে ১,২০১ জন—মোট আসামির মাত্র ৫ শতাংশ।
-
মাত্র একটি মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে।
পুলিশ ও নাগরিক সমাজের বক্তব্য
-
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মাহমুদা বেগম বলেন,
“অস্ত্রগুলো হাতবদল হওয়ায় উদ্ধার দেরি হচ্ছে। গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।” -
সুজন চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী বলেন,
“অস্ত্রধারীরা ধরা না পড়লে মানুষের আতঙ্ক কখনোই কাটবে না।”
📌 সারসংক্ষেপে: এক বছর পেরিয়ে গেলেও চট্টগ্রামের গণ–অভ্যুত্থানে প্রকাশ্যে গুলি চালানো বেশির ভাগ অস্ত্রধারী এখনো ধরা–ছোঁয়ার বাইরে। মামলার অগ্রগতি ধীর, উদ্ধার হয়নি অধিকাংশ অস্ত্রও।
0 Comments